সৈয়দপুরে জমে উঠেছে ঈদের দর্জি পাড়া: দম ফেলার ফুসরত নেই কারিগরদের।
নিজস্ব প্রতিবেদক, সৈয়দপুর:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের দর্জি পাড়াগুলোতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিনরাত মেশিনের খটখট শব্দ আর সুঁই-সুতার নিপুণ কারুকাজে তৈরি হচ্ছে নতুন পোশাক। বাজারের তৈরি পোশাকের চেয়ে নিজের পছন্দমতো ফিটিং ও ডিজাইনের কদর বেশি থাকায় দর্জি দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শহরের থ্যাংকস মোড়ে অবস্থিত জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘ওরিয়েন্ট টেইলার্স’। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কারিগরদের মহাব্যস্ততা। প্রতিষ্ঠানের মাস্টার তানভীর জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫টি প্যান্ট এবং ৩০টি শার্ট ও পাঞ্জাবি ডেলিভারি দিলেও কাজের চাপ কমছে না। “অর্ডারের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, পরিচিত দু-একজন ছাড়া এখন আর নতুন কোনো কাজ নিতে পারছি না।”
একই চিত্র দেখা গেছে নারীদের পোশাক তৈরির জন্য পরিচিত ‘হেনা টেইলার্সে’। সেখানে নতুন কোনো অর্ডার নেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। প্রতিষ্ঠানের মাস্টার জানান, হাতে যে পরিমাণ কাজ জমা আছে, সেগুলো সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কাজের মান ধরে রাখতে তারা নতুন অর্ডার নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছেন।
সৈয়দপুরের বাজার এলাকা এবং শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শেষের দিকে অর্থাৎ ২০ রমজানের পর থেকে কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে। দর্জি দোকানগুলোতে যেমন ভিড়, তেমনি কাপড়ের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্রেতাই ভিড় এড়াতে আগেভাগে কাপড় কিনে দর্জি বাড়িতে জমা দিয়েছেন।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একজন শিক্ষিকা বলেন, “ঈদের কেনাকাটায় নিজের পছন্দমতো ডিজাইন আর সঠিক ফিটিং পেতে দর্জির ওপরই ভরসা করি। তবে এবার বেশ আগেই বানাতে দিয়েছি, কারণ দেরি করলে অনেক ভালো দর্জি আর অর্ডার নিতে চান না।”
চাকুরীজীবী আরেক ক্রেতা জানান, “বাজারে এবার কাপড়ের দাম কিছুটা চড়া হলেও ভালো ডিজাইনের জন্য টেইলার্সগুলোতে ভিড় করছি। তবে পছন্দের টেইলার্সগুলো অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়তে হচ্ছে।”
তবে দর্জি মালিকদের মতে, শেষ মুহূর্তের এই মহাব্যস্ততা চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply